এ সময়ের খবর প্রতিবেদন
দেশের অন্যান্য স্থানের মতো চট্টগ্রামেও সড়ক দুঘটনায় হতাহতের সংখ্যা বাড়ছে। এ ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ মতামত এবং গবেষণায় যে সব বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের কথা বলা হয়েছে তা পুরোপুরি বাস্তবায়িত হলে এসব অনাকঙ্খিত বিপর্যকর পরিস্থিতিএড়ানো যেতো বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।
সাম্প্রতিক তথ্য ও পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ অর্থাৎ সারাদেশে মোট ৫৬৭টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৫৮৩ জন নিহত ও ১,২০২ জন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে চট্টগ্রাম বিভাগে ১৩৮টি দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা ১৩৬ এবং আহত হয়েছেন ৩৭৭ জন ।
২০২০-২২ সময়কালে চট্টগ্রাম শহরে ২৬৩ জনের মৃত্যুর ঘটনা ঘটে; এতে মোট নিহতের প্রায় এক‑তৃতীয়াংশ মোটরসাইকেল ও তিনচাকার চালক ছিলেন।
২০১৫-১৯ সালের তথ্য বলছে, দুর্ঘটনাগুলোর ৮৩.৭ % ঘটে কর্মঘণ্টার মাঝে, আর মৃত্যু‑ঘটনার ৪৬.৩ % ভুক্তভোগীর বয়স ২১-৩৫ বছর ।
দুর্ঘটনার প্রধান কারণ
জাতীয় ও আঞ্চলিক হাইওয়ের অসম্পূর্ণ বা অনিরাপদ অবকাঠামো: রাস্তায় যান চলাচলের বিভাজন না থাকা, ফুটপাতের অভাব, সঠিক সিগন্যাল নেই—এই সব কারণ প্রবলভাবে দুর্ঘটনার সম্ভাবনাকে বৃদ্ধি করেছে ।
নিয়ম না মেনে গতি বৃদ্ধি, ওভারটেকিং ও ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন, বিশেষ করে মোটরসাইকেল চালকদের অবাধ চলাচল গুরুত্বপূর্ণ কারণ ।
বাস ও ট্রাকের দখলে থাকা সড়ক এবং ভারী গাড়ি ও রিকশার মিশ্র চলাচলের ফলে দুর্ঘটনা ঘটে বেশি ।
বিশেষজ্ঞ মতামত ও তথ্যভিত্তিক প্রতিক্রিয়া
ইটঊঞ‑এর অ্যাক্সিডেন্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক প্রফেসর সোহেল মাহমুদ জানান, বাংলাদেশের নতুন সড়ক নিরাপত্তা আইন দ্রুত চালু হলে গতি নিয়ন্ত্রণ, পথচারী ও যানবাহনের আলাদা চলাচলের ব্যবস্থা,
দুর্ঘটনার পর দ্রুত সাড়া দেওয়ার ব্যবস্থা তৈরি হলে এ ক্ষেত্রে উন্নতি আসবে ।
ইজঞঅ‑র সহকারী পরিচালক নমাইমা বেগম বলেন, ‘তথ্যভিত্তিক একটি জাতীয় ডাটাবেজ ও সুষ্ঠু আইন প্রয়োগের মাধ্যমে হেলমেট, সিটবেল্ট বাধ্যতামূলক, স্পিডিং ও ম্যাড‑ড্রাইভিং রোধ করার উদ্যোগ নিতে হবে’।
প্রস্তাবিত প্রতিকার ও করণীয়
অবকাঠামোগত উন্নয়ন: ফুটপাত সম্প্রসারণ, ওভারপাস/আন্ডারপাস নির্মাণ, ভিজুয়াল ডিভাইডার ও স্পিড হাম্প বসানো, নির্দিষ্ট ট্রাফিক লেন তৈরি ।
নিয়ন্ত্রণ ও আইন প্রয়োগ: ট্রাফিক আইন দৃঢ়ভাবে প্রয়োগ, স্পিড ক্যামেরা ও মোবাইল ট্রাফিক ডিটেকশন সরঞ্জাম স্থাপন, জরিমানা ও লাইসেন্স সিস্টেম ডিজিটালাইজেশন।
প্রচারণা: স্কুল ও অফিস পর্যায়ে নিরাপত্তা বিষয়ে সচেতনতা, ক্যাম্পেইন ও হেলমেট/সিটবেল্ট ব্যবহার প্রণোদনা ।
ঝুঁকিপূর্ণ স্থান নির্ণয়: ঋওজ ভিত্তিক তথ্য, গবেষণা ও সিসিএফ‑বাংলাদেশের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোর যৌথ উদ্যোগে ‘হটস্পট’ শনাক্ত করে নির্দিষ্ট সতর্কতা বা পরিকল্পনা গ্রহণ করা ।
চট্টগ্রামে সড়ক দুর্ঘটনা শুধুমাত্র ব্যক্তিগত নয়, জাতীয় সমস্যা হিসাবে বিবেচনা করতে হবে। নির্দিষ্ট তথ্য, শক্তিশালী আইনের প্রয়োগ, সরকারি ও স্থানীয় প্রশাসনের উদ্যোগ এবং জনসচেতনতা-এই সমন্বিত উপায়ে দুর্ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা সম্ভব।